চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ ও পর্যাপ্ত চাপ না পাওয়ার কারণে তৈরি পোশাক শিল্পের অনেক কারখানা তাদের পূর্ণ উৎপাদন সক্ষমতা ব্যবহার করতে পারছে না। এ সংকট মোকাবেলায় নতুন সংযোগ দেয়ার ক্ষেত্রে সরকারকে শ্রমঘন পোশাক ও বস্ত্র শিল্পকে অগ্রাধিকার দেয়াসহ পাঁচটি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। সংগঠনটি গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তৈরি পোশাক শিল্পে চলমান গ্যাস সংকট নিরসন ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য গতকাল বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের সঙ্গে সচিবালয়ে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় বিজিএমইএর পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুর রহিম ও পরিচালক এবিএম সামছুদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে বিজিএমইএ সভাপতি তৈরি পোশাক শিল্পের নানাবিধ সমস্যা তুলে ধরেন। তিনি সংকট মোকাবেলায় পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তাব দেন। এর মধ্যে প্রথমেই রয়েছে পোশাক ও বস্ত্র শিল্পের অগ্রাধিকার। এ বিষয়ে প্রস্তাবে বলা হয়, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সুরক্ষার জন্য গ্যাসের নতুন সংযোগ দেয়ার ক্ষেত্রে শ্রমঘন পোশাক ও বস্ত্র শিল্পকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
দ্বিতীয় প্রস্তাবে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া দ্রুত করার কথা উল্লেখ করে তিতাস গ্যাসের নতুন সংযোগ অনুমোদনের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় কর্তৃক যাচাই-বাছাই কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানান বিজিএমইএ সভাপতি।
আবেদনের তালিকা পৃথক্করণ শীর্ষক তৃতীয় প্রস্তাবে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘লোড বৃদ্ধির প্রয়োজন নেই, শুধু সরঞ্জাম পরিবর্তন, পরিমার্জন বা স্থানান্তরের জন্য আবেদনকারীদের একটি আলাদা তালিকা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত দেয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।’
চতুর্থ প্রস্তাবে কম লোড বৃদ্ধির আবেদনকারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সংযোগ দেয়ার কথা বলা হয়, যা ছোট ও মাঝারি শিল্পগুলোকে দ্রুত উৎপাদনে যেতে সাহায্য করবে।
সর্বশেষ প্রস্তাবে বলা হয়, ধামরাই ও মানিকগঞ্জের মতো এলাকায় গ্যাস পাইপলাইনের শেষ প্রান্তে অবস্থিত কারখানাগুলোয় চাপ কমে যায়, সেখানে অন্তত ৩-৪ পিএসআই চাপ নিশ্চিতের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়।
বিজিএমইএ জানিয়েছে, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বিজিএমইএ সভাপতির প্রস্তাবগুলো মনোযোগ সহকারে শোনেন।